
বিজ্ঞান ডেস্ক: পাখি দেখা শুধু অবসর কাটানোর মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাস মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সক্ষমতা হ্রাসের প্রক্রিয়া ধীর করতে সহায়তা করে।
কানাডার গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় অভিজ্ঞ ও নবীন পাখিপ্রেমীদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মনোযোগ, দৃশ্যগত উপলব্ধি এবং অপরিচিত কিছু শনাক্ত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলোতে বেশি সক্রিয়তা ও সংগঠিত বিন্যাস রয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও জার্মানির বিভিন্ন পরিচর্যাকেন্দ্রে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, পাখি দেখার সুযোগ পেলে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মানসিক সুস্থতা বাড়ে। পাখিদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের কথোপকথন, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখি শনাক্ত করার মতো মনোযোগনির্ভর দক্ষতা চর্চা মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে মস্তিষ্কের গঠনগত এই পার্থক্য সরাসরি পাখি দেখার অভ্যাসের ফল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান গবেষকেরা।